আর মাত্র কয়েকটা দিন, মনের ভিতরের ইতিহাসের পাতায় সব স্মৃতি হয়ে যাবে। কিছু সময় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। সেই স্বর্ণময়ী দিনগুলাে হচ্ছে "কুর্মিটোলা হাই স্কুল এন্ড কলেজ" - এ কাটানাে সময়টুকু। ১০টি বছর চোখের পলকে কীভাবে কেটে গেল! চোখ বুজলে মনে হয়। এইতাে কিছুটা দিন আগে প্রথম যখন স্কুলে পা রেখেছিলাম তখন ছিল শুধু কিছু অচেনা মুখ, অচেনা জায়গা, অচেনা প্রান্তর। একের পর এক ১০ টি বছর কেটে গেল।
আগে ক্লাসে বসে প্রতিটি ঘন্টা, প্রতিটি সময়, প্রতিটি মিনিট গুণতে থাকতাম কখন বাজবে ছুটির ঘন্টা। হায়! আফসােস! আজ যখন চিরতরে বাজতে চলেছে এই ছুটির ঘন্টা তখন ইচ্ছে করছে ছুটির ঘন্টা বাজতে না দেই! ফিরে যাই সেই ফেলে আসা দিনগুলােতে। ফিরে পেতে ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে কাটানাে মুহর্তুগুলাে। টিফিনের ২০ মিনিট সময়টা বারান্দায় বা মাঠে কাটানাে সেই দিনগুলাে। কৃষ্ণচূড়ার ফুল অথবা চন্দন বিচি কুড়ানাের সময়টা। বৃষ্টির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাতটা বাইরে বাড়িয়ে দেওয়ার সেই সময়টা । শিক্ষক - শিক্ষিকার শাসন । তাদের অগােচরে ক্লাসে পাশের বান্ধবির সাথে ফিসফিসিয়ে কথা বলা। ক্লাসে বসে মনােযােগের ছলে দুষ্টুমি করা। মনে গেঁথে আছে স্কুলের নিচতলা থেকে পাঁচতলার প্রতিটি সিড়িতে দুষ্টুমির দিনগুলাে আজকের মতাে যদি সেই সময়টায় ভাবতে পারতাম হয়তাে তখন ছুটির ঘন্টা বাজতে দিতাম না। আজ মনে হারানাের ব্যথা। হায় - হতাশা। কয়েকটা দিনের মধ্যে সব স্মৃতি হয়ে যাবে। কিন্তু হাজার চেষ্টা করলেও ফিরে যেতে পারব না বা ছুটির ঘন্টা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু সারাজীবন মনে গেঁথে থাকবে সেই স্মৃতিগুলাে। আমি আমার মানবিক শাখার সকলের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া ও সকল ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ছােটদের জন্য বলছি এই জায়গা থেকে শিখে নাও, নিজেকে তৈরি করে নাও , স্মৃতিতে গেঁথে নাও । কারণ, একদিন তােমাদেরও যেতে হবে এই বিদ্যালয় ছেড়ে।
−−−−−−−−−−−−−−
➤ কম্পিউটার কম্পোজ্ড - সাদমান হোসেন➤ ব্যবস্থাপনায় - খাদিজা আক্তার তানহা (লিজা), সাফিয়া আলী ইল্লিন, নাবিল রাইয়ান, রাকিবুল হাসান সিয়াম

Comments
Post a Comment