Skip to main content

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে - মরিয়ম আক্তার

 

আমার নাম আয়মানা।আমি কলেজে পড়ি।আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।আমার বাবা একজন প্রাইভেট স্কুল টিচার।বাবার বেতনও প্রাইভেট স্কুল টিচারের মত কম,যা দিয়ে আমাদের সংসার চলে। আমি টিউশন করে নিজের খরচ নিজেই চালাই। এইতো কিছুদিন আগেই আমার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো।আজ রেজাল্ট দিয়েছে।রেজাল্ট তেমন ভালো হয়নি।যার কারণে মন খুব খারাপ ছিলো আমার।মা ফোন দিচ্ছিলো বারবার দেরী হওয়ার কারণে।ফোনে কথা বলা শেষ হতেই আমার কানে এলো আমার বন্ধু আশা আমাকে টিটকারী করে বলছে ' কিরে কি ২ টাকার ফোন চালাস '। বলেই সে তার বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি করা শুরু করলো। আমি ওর কথা শুনে খুব রেগে গেলাম। কলেজ থেকে বড় রাস্তায় হাটা শুরু করলাম।সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা।হেঁটে-হেঁটে বাড়ি ফিরলাম।
বাড়ি ফিরেই নিজের ঘরে ঢুকে গেলাম।একটু পরে মা খেতে ডাকার জন্য রুমে এলো।তখনই আমি চেচিয়ে বলে উঠলাম " বাবা কেনো আমার সব চাহিদা পূরণ করতে পারে না,সবার বাবা পূরণ করতে পারে আমার বাবা কেনো পারেনা?" বলেই দরজা বন্ধ করলাম।বাবা বোধহয় পাশের রুম থেকে সব শুনতে পেয়েছে। তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।সকালে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাবা মা ঘুম থেকে উঠে। ওইদিন মা উঠলেও বাবা উঠলো না।মা বাবা কে ডাক দেয়"তুমি উঠছো না কেনো? নামাজ পড়বে না?" বলেই মা বাবাকে ধরলো।দেখলো বাবার শরীরটা ঠান্ডা হয়ে আছে। মা বুঝত পারলো কি হয়েছে। মা বাবার মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে চুপ করে বসে ছিল।
খুব সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গলো। সাধারণত আমার এত সকালে ঘুম ভাঙ্গেনা। ঘুম থেকে উঠেই বাবা মার ঘরে গেলাম।
গিয়ে দেখলাম মায়ের কোলে বাবা শুয়ে আছে।আমি খুব অবাক হলাম।মাকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? মা আমাকে ধমক দিয়ে বললো চুপ থাক।দেখছিস না তোর বাবা ঘুমাচ্ছে।আমি বাবাকে ধরলাম।বুঝলাম বাবা আর নেই।আমি স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম বাবার কাছে।
দুপুরে বাবার মাটি হয়ে গেলো।
আমি বাবার কবরের পাশে বসে বললাম " বাবা তুমি ফিরে আসো।আমার কিচ্ছু চাইনা । শুধু তুমি ফিরে আসো।"
. . . . . . . . . . . . . .
বাবা মারা যাওয়ার ১ বছর হয়ে গেছে।যেই মেয়েটার কাছে এখন কলেজের বই থাকার কথা, সেই মেয়ের ওপর এখন দুইজন মানুষের ক্ষুধা মেটানোর দায়িত্ব।

➤ কম্পিউটার কম্পোজ্ড - সাফিয়া আলী ইল্লিন
➤ ব্যবস্থাপনায় - খাদিজা আক্তার তানহা (লিজা), সাফিয়া আলী ইল্লিন, নাবিল রাইয়ান, রাকিবুল হাসান সিয়াম

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

অঙ্কে কাঁচা - রিয়াদ আলম তামিম

কে বলে অঙ্কে আমি কাঁচা, অঙ্কে আমি হিরো। বরাবরই পেয়ে থাকি বড় বড় জিরো। বীজগনিতে অতি পাকা, শুধু সূত্রে ভুল। পাটিগণিত করতে বসলে, উঠে আমার চুল। ত্রিকোণ্মিতি অতি সহজ, পরিমিতি আঁকতে হয় দেরি। সম্পাদ্য যেমন তেমন, উপপাদ্যে ঠেলাগাড়ি। গণিত নিয়ে নেইতো, আমার কোনো ভয়। যত লিখিবে, তত পারিবে, হবেই, হবে, জয়! −−−−−−−−−−−−−− ➤ কম্পিউটার কম্পোজ্ড - মোঃ সাকিবুল হক ➤ ব্যবস্থাপনায় - খাদিজা আক্তার তানহা (লিজা), সাফিয়া আলী ইল্লিন, নাবিল রাইয়ান, রাকিবুল হাসান সিয়াম  

স্মৃতির পাতায় - সাদমান হোসেন

  আর মাত্র কয়েকটা দিন, মনের ভিতরের ইতিহাসের পাতায় সব স্মৃতি হয়ে যাবে। কিছু সময় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। সেই স্বর্ণময়ী দিনগুলাে হচ্ছে "কুর্মিটোলা হাই স্কুল এন্ড কলেজ" - এ কাটানাে সময়টুকু। ১০টি বছর চোখের পলকে কীভাবে কেটে গেল! চোখ বুজলে মনে হয়। এইতাে কিছুটা দিন আগে প্রথম যখন স্কুলে পা রেখেছিলাম তখন ছিল শুধু কিছু অচেনা মুখ, অচেনা জায়গা, অচেনা প্রান্তর। একের পর এক ১০ টি বছর কেটে গেল। আগে ক্লাসে বসে প্রতিটি ঘন্টা, প্রতিটি সময়, প্রতিটি মিনিট গুণতে থাকতাম কখন বাজবে ছুটির ঘন্টা। হায়! আফসােস! আজ যখন চিরতরে বাজতে চলেছে এই ছুটির ঘন্টা তখন ইচ্ছে করছে ছুটির ঘন্টা বাজতে না দেই! ফিরে যাই সেই ফেলে আসা দিনগুলােতে। ফিরে পেতে ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে কাটানাে মুহর্তুগুলাে। টিফিনের ২০ মিনিট সময়টা বারান্দায় বা মাঠে কাটানাে সেই দিনগুলাে। কৃষ্ণচূড়ার ফুল অথবা চন্দন বিচি কুড়ানাের সময়টা। বৃষ্টির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাতটা বাইরে বাড়িয়ে দেওয়ার সেই সময়টা । শিক্ষক - শিক্ষিকার শাসন । তাদের অগােচরে ক্লাসে পাশের বান্ধবির সাথে ফিসফিসিয়ে কথা বলা। ক্লাসে বসে মনােযােগের ছলে দুষ্টুমি করা। মনে...

তফা - খাদিজা আক্তার তানহা

  আমার নাম সৃষ্টি । আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তফা। ভারি অবাক করা মেয়ে। আমি তফাকে যতো দেখেছি শুধু অবাকই হয়েছি। ওর মতো মেয়ে এখন খুব কমই দেখা যায়। জানিনা ওর মতো এমন একজন মানুষের সাথে কিভাবে বন্ধুত্ব হলো। ২০১৫ সালের কথা হঠাৎ বছরের মাঝে অক্সফোর্ড স্কুলে ক্লাস থ্রি তে একটি মেয়ে ভর্তি হয়। দেখতে অনেকটা অগোছালো তবে চেহারা দায়িত্ববোধের ছাপ রয়েছে। সাধাসিধে স্বভাবের একটি মেয়ে।প্রথমদিন ক্লাসে ঢুকেই মুচকি হাসি দিয়ে, কথা নেই বার্তা নেই, আমার পাশে এসে বসে পড়লো। আমি চুপচাপ বসে আছি। ওর হাবভাব দেখে বুঝতে পেরেছি কিছু একটা বলতে চাচ্ছে। তাই আমিই জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার নাম কি?" এই হল আমার ভুল। এরপর থেকে সে শুধু কথা বলেই যাচ্ছে! মজার বিষয় হলো তফা কথা যতই বেশি বলুক না কেন। ওর মনটা অনেক ভালো। স্বচ্ছ কাচের মত। লুকোচুরি বলতে কিছু নেই আর একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। কিছুদিনের মধ্যেই তফা আর আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। ওর কিছু কিছু কথা খুবই হাস্যকর। কথা বলার সময় মুখের অনেক অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলে। একদিন ইংরেজি ক্লাসে স্যার কিছুটা রাগ্ন্বিত হয়ে ক্লাসে ঢুকলেন। ইংরেজি ক্লাস নেন আবিদ স্যার, তিনি হলেন প্রচন্ড রগচট...