আজ আমার জন্মদিন। আজকে আমার বয়স ৮ বছর পূর্ণ হয়ে ৯ হবে। বাবাকে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছি। এখন সন্ধ্যা ৭ টার মত বাজে।
[পরের দিন সকাল]
বাবার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মা বললো বাবা অনেক দেরীতে বাসায় ফিরিছে। আমি ঠিক করলাম বাবার সাথে কথা বলবোনা, আড়ি। কিন্তু বাবা যখন সকালে উপহারের বাক্সটি হাতে দিলো তখন আর অভিমান করে থাকতে পারলাম না। উপহার হাতে পেয়েই যখনি খুলতে যাবো মা বললো, "আগেই না! হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা করার পরে খুলবে।"
বাবার উপহারটি ছিল একটি ছবি আকার খাতা, কাঠ পেন্সিল আর আমার প্রিয় রং, যেটা আমি বাবাকে কিনে দেয়ার কথা বলেছিলাম। নতুন আকার সরঞ্জাম পেয়ে আমি তো মহাখুশি। তাই সকাল থেকেই ছবি আঁকতে বসে গেলাম। এভাবে কিছুদিন যেতে লাগলো, ছবি আকার প্রতি আমার এক অন্য রকম আগ্রহ জাগতে শুরু করেছিল। একটা পর্যায়ে মা, আমার আকা আকিতে বিরক্ত হয়ে, আমার আকার সব কিছু নিয়ে গেলো। আমি বিষয়টা মানতে পারছিলাম না। স্কুলে গেলেও আমার মন ছবি আকার জন্য বিচলিত হয়ে থাকতো। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় এসব বিষয় ভাবছিলাম হঠাৎ কি যে হল সবাই বললো, "এই রাশু, সাবধানে গাড়ি!!"।
তারপর আর কিছু মনে নেই, নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের বিছানায়। বাবা, মা, আপু সবাই আছে। আমি বাবাকে ডাকার চেষ্টা করলাম কিন্তু কেন জানি গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিল না। দূর থেকে শুনতে পেলাম বাবা, মাকে বলছে, " তোমার ছেলে আর কথা বলতে পারবেনা!"।
. . . . . . . . . . . . . . .
এভাবে প্রায় একবছর কেটে গেল, জীবনটা রংহীন হয়ে পরেছে। সবকিছু আর আগের মত নেই। একটা মুহূর্ত যেন সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।
আমার ১০ম জন্মদিন। আগের মত আর ছেলেমানুষী নেই। হঠাৎ বাবা আজ অফিস থেকে অনেক আগেই চলে এসেছে। বাবা, হঠাৎ একটা র্যাপিং করা বাক্স হাতে দিয়ে বললো তোর জন্য জন্মদিনের গিফট।
গিফটটা খুলে, আমি কিছুটা অবাক হয়েছি, একটা ছবি আকার খাতা আর আমার সেই প্রিয় রং। আমি আবার ছবি আকা শুরু করবো। ছবির মাধ্যমে আমার মনের কথা সবাইকে বোঝাবো। আমি ভেবেছিলাম কথা বলতে না পারা জীবনের এক বড় অংশ হারিয়ে ফেলা। আমি ছবি একে দেখাতে না আমার কিছুই হারিয়ে যায় নি।
−−−−−−−−−−−−−−
➤ কম্পিউটার কম্পোজ্ড - মোঃ সাকিবুল হক➤ ব্যবস্থাপনায় - খাদিজা আক্তার তানহা (লিজা), সাফিয়া আলী ইল্লিন, নাবিল রাইয়ান, রাকিবুল হাসান সিয়াম

Agear ta thika ahonear ta valo
ReplyDelete