Skip to main content

হারিয়ে যায় নি - আয়মন ইসলাম

 

আজ আমার জন্মদিন। আজকে আমার বয়স ৮ বছর পূর্ণ হয়ে ৯ হবে। বাবাকে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছি। এখন সন্ধ্যা ৭ টার মত বাজে।
[পরের দিন সকাল]
বাবার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মা বললো বাবা অনেক দেরীতে বাসায় ফিরিছে। আমি ঠিক করলাম বাবার সাথে কথা বলবোনা, আড়ি। কিন্তু বাবা যখন সকালে উপহারের বাক্সটি হাতে দিলো তখন আর অভিমান করে থাকতে পারলাম না। উপহার হাতে পেয়েই যখনি খুলতে যাবো মা বললো, "আগেই না! হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা করার পরে খুলবে।"
বাবার উপহারটি ছিল একটি ছবি আকার খাতা, কাঠ পেন্সিল আর আমার প্রিয় রং, যেটা আমি বাবাকে কিনে দেয়ার কথা বলেছিলাম। নতুন আকার সরঞ্জাম পেয়ে আমি তো মহাখুশি। তাই সকাল থেকেই ছবি আঁকতে বসে গেলাম। এভাবে কিছুদিন যেতে লাগলো, ছবি আকার প্রতি আমার এক অন্য রকম আগ্রহ জাগতে শুরু করেছিল। একটা পর্যায়ে মা, আমার আকা আকিতে বিরক্ত হয়ে, আমার আকার সব কিছু নিয়ে গেলো। আমি বিষয়টা মানতে পারছিলাম না। স্কুলে গেলেও আমার মন ছবি আকার জন্য বিচলিত হয়ে থাকতো। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় এসব বিষয় ভাবছিলাম হঠাৎ কি যে হল সবাই বললো, "এই রাশু, সাবধানে গাড়ি!!"।
তারপর আর কিছু মনে নেই, নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের বিছানায়। বাবা, মা, আপু সবাই আছে। আমি বাবাকে ডাকার চেষ্টা করলাম কিন্তু কেন জানি গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিল না। দূর থেকে শুনতে পেলাম বাবা, মাকে বলছে, " তোমার ছেলে আর কথা বলতে পারবেনা!"।
. . . . . . . . . . . . . . .
এভাবে প্রায় একবছর কেটে গেল, জীবনটা রংহীন হয়ে পরেছে। সবকিছু আর আগের মত নেই। একটা মুহূর্ত যেন সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।
আমার ১০ম জন্মদিন। আগের মত আর ছেলেমানুষী নেই। হঠাৎ বাবা আজ অফিস থেকে অনেক আগেই চলে এসেছে। বাবা, হঠাৎ একটা র‍্যাপিং করা বাক্স হাতে দিয়ে বললো তোর জন্য জন্মদিনের গিফট।
গিফটটা খুলে, আমি কিছুটা অবাক হয়েছি, একটা ছবি আকার খাতা আর আমার সেই প্রিয় রং। আমি আবার ছবি আকা শুরু করবো। ছবির মাধ্যমে আমার মনের কথা সবাইকে বোঝাবো। আমি ভেবেছিলাম কথা বলতে না পারা জীবনের এক বড় অংশ হারিয়ে ফেলা। আমি ছবি একে দেখাতে না আমার কিছুই হারিয়ে যায় নি।
−−−−−−−−−−−−−−
➤ কম্পিউটার কম্পোজ্ড - মোঃ সাকিবুল হক
➤ ব্যবস্থাপনায় - খাদিজা আক্তার তানহা (লিজা), সাফিয়া আলী ইল্লিন, নাবিল রাইয়ান, রাকিবুল হাসান সিয়াম

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

অঙ্কে কাঁচা - রিয়াদ আলম তামিম

কে বলে অঙ্কে আমি কাঁচা, অঙ্কে আমি হিরো। বরাবরই পেয়ে থাকি বড় বড় জিরো। বীজগনিতে অতি পাকা, শুধু সূত্রে ভুল। পাটিগণিত করতে বসলে, উঠে আমার চুল। ত্রিকোণ্মিতি অতি সহজ, পরিমিতি আঁকতে হয় দেরি। সম্পাদ্য যেমন তেমন, উপপাদ্যে ঠেলাগাড়ি। গণিত নিয়ে নেইতো, আমার কোনো ভয়। যত লিখিবে, তত পারিবে, হবেই, হবে, জয়! −−−−−−−−−−−−−− ➤ কম্পিউটার কম্পোজ্ড - মোঃ সাকিবুল হক ➤ ব্যবস্থাপনায় - খাদিজা আক্তার তানহা (লিজা), সাফিয়া আলী ইল্লিন, নাবিল রাইয়ান, রাকিবুল হাসান সিয়াম  

স্মৃতির পাতায় - সাদমান হোসেন

  আর মাত্র কয়েকটা দিন, মনের ভিতরের ইতিহাসের পাতায় সব স্মৃতি হয়ে যাবে। কিছু সময় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। সেই স্বর্ণময়ী দিনগুলাে হচ্ছে "কুর্মিটোলা হাই স্কুল এন্ড কলেজ" - এ কাটানাে সময়টুকু। ১০টি বছর চোখের পলকে কীভাবে কেটে গেল! চোখ বুজলে মনে হয়। এইতাে কিছুটা দিন আগে প্রথম যখন স্কুলে পা রেখেছিলাম তখন ছিল শুধু কিছু অচেনা মুখ, অচেনা জায়গা, অচেনা প্রান্তর। একের পর এক ১০ টি বছর কেটে গেল। আগে ক্লাসে বসে প্রতিটি ঘন্টা, প্রতিটি সময়, প্রতিটি মিনিট গুণতে থাকতাম কখন বাজবে ছুটির ঘন্টা। হায়! আফসােস! আজ যখন চিরতরে বাজতে চলেছে এই ছুটির ঘন্টা তখন ইচ্ছে করছে ছুটির ঘন্টা বাজতে না দেই! ফিরে যাই সেই ফেলে আসা দিনগুলােতে। ফিরে পেতে ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে কাটানাে মুহর্তুগুলাে। টিফিনের ২০ মিনিট সময়টা বারান্দায় বা মাঠে কাটানাে সেই দিনগুলাে। কৃষ্ণচূড়ার ফুল অথবা চন্দন বিচি কুড়ানাের সময়টা। বৃষ্টির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাতটা বাইরে বাড়িয়ে দেওয়ার সেই সময়টা । শিক্ষক - শিক্ষিকার শাসন । তাদের অগােচরে ক্লাসে পাশের বান্ধবির সাথে ফিসফিসিয়ে কথা বলা। ক্লাসে বসে মনােযােগের ছলে দুষ্টুমি করা। মনে...

তফা - খাদিজা আক্তার তানহা

  আমার নাম সৃষ্টি । আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তফা। ভারি অবাক করা মেয়ে। আমি তফাকে যতো দেখেছি শুধু অবাকই হয়েছি। ওর মতো মেয়ে এখন খুব কমই দেখা যায়। জানিনা ওর মতো এমন একজন মানুষের সাথে কিভাবে বন্ধুত্ব হলো। ২০১৫ সালের কথা হঠাৎ বছরের মাঝে অক্সফোর্ড স্কুলে ক্লাস থ্রি তে একটি মেয়ে ভর্তি হয়। দেখতে অনেকটা অগোছালো তবে চেহারা দায়িত্ববোধের ছাপ রয়েছে। সাধাসিধে স্বভাবের একটি মেয়ে।প্রথমদিন ক্লাসে ঢুকেই মুচকি হাসি দিয়ে, কথা নেই বার্তা নেই, আমার পাশে এসে বসে পড়লো। আমি চুপচাপ বসে আছি। ওর হাবভাব দেখে বুঝতে পেরেছি কিছু একটা বলতে চাচ্ছে। তাই আমিই জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার নাম কি?" এই হল আমার ভুল। এরপর থেকে সে শুধু কথা বলেই যাচ্ছে! মজার বিষয় হলো তফা কথা যতই বেশি বলুক না কেন। ওর মনটা অনেক ভালো। স্বচ্ছ কাচের মত। লুকোচুরি বলতে কিছু নেই আর একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। কিছুদিনের মধ্যেই তফা আর আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। ওর কিছু কিছু কথা খুবই হাস্যকর। কথা বলার সময় মুখের অনেক অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলে। একদিন ইংরেজি ক্লাসে স্যার কিছুটা রাগ্ন্বিত হয়ে ক্লাসে ঢুকলেন। ইংরেজি ক্লাস নেন আবিদ স্যার, তিনি হলেন প্রচন্ড রগচট...